![]() |
কুলাউড়ায় তিন শিশুর মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারি শোকে স্তব্ধ এলাকা। |
নিউজ ডেস্ক :
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় সাঁতার শিখতে গিয়ে বৃষ্টির পানিতে ডুবে তিন শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে সৃষ্ট গভীর গর্তে জমে থাকা পানিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। একসঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, স্তব্ধ হয়ে পড়েছে ফটিকগুলি গ্রাম।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ফটিকগুলি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত তিন শিশু হলো সাহেব আলীর ছেলে লাবিব আহমদ (৭), আশিক আলীর ছেলে ইমাদ আলী (১০) এবং সিপার মিয়ার ছেলে জিসান আহমদ (১২)। তাদের মধ্যে লাবিব ও ইমাদ চাচাতো ভাই।
জানা গেছে, লাবিব স্থানীয় ফটিকগুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র, ইমাদ রহমদাবাদ ইসলামিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়তো এবং জিসান বুধপাশা মাদ্রাসাতুল আর রহমানিয়া মাদ্রাসায় হাফিজি বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, বুধবার দুপুরে কালবৈশাখী ঝড়ের পর বৃষ্টির পানি জমে যায় গ্রামের পাশের একটি কৃষি জমিতে। সম্প্রতি ওই জমি থেকে মাটি বিক্রি করার কারণে সেখানে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়। দুপুরের দিকে বাড়ি থেকে প্রায় তিনশ ফুট দূরে ওই স্থানে খেলতে যায় তিন শিশু। একপর্যায়ে তারা পানিতে নেমে সাঁতার কাটার চেষ্টা করে। কিন্তু সাঁতার না জানায় তারা গর্তের গভীরে তলিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে রবির বাজারে নিয়ে যায়। সেখানে ডা. মনিরুল ইসলাম সোহাগের চেম্বারে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সন্তান হারানো পরিবারগুলোর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। খবর পেয়ে গ্রামের অসংখ্য মানুষ নিহতদের বাড়িতে ভিড় জমায়।
কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হেলাল আহমদ জানান, কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করার ফলে তৈরি হওয়া গভীর গর্তগুলো বর্ষার পানি ও পাহাড়ি ঢলে ভরে যায়। এগুলো এখন বড় ধরনের ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “এই ধরনের খোলা গর্ত শিশুদের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছে। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
এদিকে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একসঙ্গে তিনটি কোমল প্রাণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের মাতম বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত এসব ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত ভরাটসহ প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এভাবে সন্তান হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াতে না হয়।

Post a Comment